বঙ্গভূমির প্রতি কবিতার ব্যাখ্যা
এই কবিতা জানার জন্য এর পূর্বকথা জানতে হবে।
পূর্বকথা জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন।
এখন আজ প্রথম চার লাইনের ব্যাখ্যা লেখব এবং বুঝব।
"রেখো মা, দাসেরে....................
................... তব মনঃককনদে।"
বঙ্গভূমির প্রতি ব্যাখ্যাঃ ১ম লাইন ব্যাখ্যাঃ
শব্দার্থঃ
মাঃ জননী (এখানে মা বলতে দেশ মাকে বোঝানো হয়েছে )
দাসঃ চাকর (এখানে দাস বলতে কবি নিজেকে বুঝিয়েছেন )
মিনতিঃ বিনীত নিবেদন।
পদেঃ পায়ে
ব্যাখ্যাঃ আমরা আগেই জানি কবি একটা ভুল করেছেন। তাই তিনি দেশ মায়ের পায়ে বিনীত নিবেদন জানাচ্ছেন যেন দেশ মা তাকে দাসকে অর্থাৎ কবিকে স্মরণ রাখে।
বঙ্গভূমির প্রতি ব্যাখ্যা ঃ ২য় ও ৩য় লাইন ব্যাখ্যাঃ
শব্দার্থঃ
সাধঃ মনের ইচ্ছা।
ঘটেঃ ঘটিত গওয়া।
পরমাদঃ ভুল, ভ্রান্তি।
ব্যাখ্যাঃ কবির মনের সাধ আমরা আগে জেনেছিলাম। তিনি বিলেত গিয়ে কবিতা লিখে বিখ্যাত হতে চেয়েছিলেন।কিন্তু এটা তার ভুল ছিল।তাই তিনি বলছেন মনের ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে।
বঙ্গভূমির প্রতি ব্যাখ্যা ঃ৪র্থ লাইন ব্যাখ্যাঃ
শব্দার্থঃ
মধুহীনঃ নিরাশ হওয়া
ককনদঃ লাল পদ্ম ফুল।
ব্যাখ্যাঃ এখানে তিনি দেশ মায়ের মন খারাও করে রাখতে মানা করছে।কবিতার ভাষায় বলেছেন দেশ মা যেন তার লাল পদ্ম ফুলের মতো মনকে নিরাশ করে না রাখে।দেশের মনকে তিনি লাল পদ্মের সাথে তুলনা করেছেন।
২য়,৩য় ও ৪র্থ লাইন একত্রেঃ
কবি ২,৩,৪ লাইনে বুঝিয়েছেন যে-
আমার যদি মনের সাধ পূরণ করতে গিয়ে কোনো ভুল হয়ে থাকে দেশ মা যেন তার পদ্ম ফুলের মতো মনকে নিরাশ করে না রাখে এবং এর জন্য তিনি প্রথম লাইনেই ক্ষমা চেয়েছেন
এখন আমরা ৫ নং লাইন থেকে ১০ নং লাইন পর্যন্ত পড়ব অর্থাৎ। মোট ৬ টি লাইন।
"প্রবাসে,দৈবের........................
................... হায় রে,জীব নদে? "
বঙ্গভূমির প্রতি ব্যাখ্যা ঃ৫ম,৬ষ্ঠ,৭ম লাইন ব্যাখ্যাঃ
শব্দার্থঃ
প্রবাসে- বিদেশে
দৈব- দেবতা
বশে- ইচ্ছায়
জীব - জীবন
খসে-খসে যাওয়া (এখানে জীবনাবসান বোঝানো হয়েছে)
খেদ- ক্ষোভ
ব্যাখ্যাঃ উক্ত লাইন ৩টি দিয়ে বোঝানো হয়েছে -বিদেশে দেবতার ইচ্ছায় আকাশ থেকে যেমন তারা খসে পড়ে তেমনি করে যদি এই দেহ থেকে জীবন তারা খসে পড়ে তাহলেও কবির কোনো ক্ষোভ থাকবে না।
# তখন যেহেতু তিনি বিদেশ ছিলেন তাই তিনি প্রবাস কথাটি উল্লেখ করেছেন।
#এখানে কবি দেহের প্রাণকে আকশের তারার সাথে তুলনা করেছেন।
বঙ্গভূমির প্রতি ব্যাখ্যা ঃ ৮ম, ৯ম ও ১০ম লাইনের ব্যাখ্যাঃ
শব্দার্থঃ
অমর- যার মৃত্যু নেই
নীর- পানি,জল
ব্যাখ্যাঃ তিনি উক্ত লাইন দুটি দ্বারা বোঝাতে চেয়েছেন যে যার জন্ম আছে তার মৃত্যুও আছে, এমন কেউ কি আছে যে অমর থাকবে এই পৃথিবীতে? কবি এই প্রসঙ্গকে মৃত নদের সাথে তুলনা করেছেন।মৃত নদ ছাড়া এমন কি কোনো নদ আছে যে নদে পানি স্থির?একইভাবে মানুষের জীবন নামক নদের পানি স্থির হয়ে গেলে সে মৃত বলে বিলে বিবেচিত হয়।যেহেতু জন্ম হলে মরতে হবেই তাই কবির মৃত্যু নিতে কোনো ক্ষোভ নেই।
উক্ত লাইন গুলোতে তিনি বলেছেন-
বিদেশে থাকা অবস্থায় দেবতার ইচ্ছায় আকাশে খসে পড়া তারার মতো আমার দেহ থেকেও যদি প্রাণ খসে বা চলে যায় তবুও কবির কোনো ক্ষোভ থাকবে না। কারণ মানুষ মরণশীল। পৃথিবীতে এমন কোনো জীবিত নদ নেই যার পানি স্থির ঠিক তেমনি পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ নেই যে চিরকাল বেঁচে থাকবে।তাই কবির কোনো ক্ষোভ নেই।
"কিন্তু যদি রাখ............................
..........................গো, শ্যামা জন্মদে"
১১ ও ১২ লাইন
শব্দার্থঃ
ডরি- ভয় পাওয়া
শমনে- মৃত্যু দেবতাকে
ব্যাখ্যাঃ কবি আগের লাইনে বলেছেন যে তিনি যদি বিদেশে মরেও যান তবুও তার কোনো ক্ষোভ নেই। কিন্তু তিনি শর্ত দিয়েছেন যে তার তখনই ক্ষোভ থাকবে না যখন দেশ মা তাকে মনে রাখবে।তাই
তিনি বলেছেন,তিনি মৃত্যু দেবতাকেও ভয় পান না যদি দেশ মা তাকে স্মরণ রাখে।
বঙ্গভূমির প্রতি ঃ ১৩,১৪,১৫ ও ১৬ লাইনের ব্যখ্যাঃ
মক্ষিকা- মাছি
অমৃত হ্রদ- যে নদে কিছু পড়লে তা অমর হয়ে যায়।
ধন্য- স্বার্থক
নরকুল- পৃথিবী
সেবে- সেবা করে।
সর্বজন- সবাই
ব্যাখ্যাঃ কবি সারা জীবন বিখ্যাত হতে চেয়েছিল। বিদেশে গিয়ে কবি বিখ্যাত হতে পারেনি।কিন্তু কবি জানেন যে দেশের মনে স্মরণ থাকতে পারলে কবি বিখ্যাত হতে পারবেন।তাই তিনি আগের লাইনে দেশ মাকে এই শর্ত দিয়েছিলেন।
তিনি উক্ত লাইন গুলোতে বলেছেন যে,অমৃতহ্রদে পড়লে মাছির মতো তুচ্ছ কীটেরও মৃত্যু ঘটেনা। এখানে কবি অমর বলতে বিখ্যাত হয়ে মানষের মনে অমর থাকার কথা বিলেছেন।কবিতায় লিখেছেন এই স্বর্থক পৃথিবীতে যে দেশের মনে অমর থাকতে পারে সে মানুষের মনেও অমর থাকতে পারে।মানুষ তাকে সব সময় মনের মধ্যে শ্রদ্ধা করে।
বঙ্গভূমির প্রতি ঃ ১৭,১৮ ও ১৯ লাইনের ব্যাখ্যাঃ
শব্দার্থঃ
যাচিব- চাইব
তব- তোমার
হেন-এমন
শ্যাম্যা- শ্যামল
জন্মদে- জন্মদাতা
ব্যাখ্যাঃ এবার কবি আফসোস করে সবুজ-শ্যামল দেশ বা জন্মভূমিকে বলছেন যে,তার এমন কি কোনো গুণ আছে যার বদলে কবি অমরতা চাইবেন দেশ মায়ের কাছে।
বঙ্গভূমির প্রতি ঃ ২০,২১ ও ২২ লাইনের ব্যাখ্যাঃ
শব্দার্থঃ
বর- আশীর্বাদ
দেহ- দাও
সুবরদে- ভালো আশীর্বাদ দাতা দেশ
ব্যাখ্যাঃ এই লাইন গুলোতে তিনি দেশ মাকে অনুরোধ করছেন যেন তার ভুল গুলোকে গুণ ধরে।কারণ কবির কোনো ভালো গুণ ছিলো না। আরো অনুরোধ করেছেন যে এই ভালো আশীর্বাদ দাতা দেশ যেন তাকে অমর রাখার আশীর্বাদ দেয়।
বঙ্গভূমির প্রতি ব্যাখ্যা ঃ ২৩,২৪ ও ২৫ লাইনের ব্যাখ্যাঃ
শব্দার্থঃ
মানসে- মনে
যথা- যেভাবে
ফলে ফুটে
মধুময় - মিষ্টি
তামরস- পদ্ম ফুল
শতদে- শরৎ কালে
ব্যাখ্যাঃ কবি অমর হতে চেয়েছেন দেশ মায়ের কাছে এবং আশা করছেন যে,তিনি যেন মানুষের মনে পদ্ম ফুলের মতো সারা জীবন ফুটে থাকতে পারেন।
# এখানে স্মৃতি জলে ফুটে থাকা অর্থ হলো মানুষের মনে স্মরণ থাকা বোঝানো হয়েছে।
বঙ্গভূমির প্রতি ব্যাখ্যা
বঙ্গভূমির প্রতি কবিতার ব্যাখ্যা
--------০----------